Saturday, October 1, 2011

৬৭. সুরা মুলক



পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করিতেছি

১. তিনি বড়ই বরকত ওয়ালা – যাহার হাতে ক্ষমতা ও আধিপত্য, তিনি সকল বিষয়ের উপর শক্তিশালী।
২. তিনি মউত ও হায়াত পয়দা করিয়াছেন, যেন তিনি তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে কে অধিকতর নেককার, আর তিনি ইজ্জতওয়ালা ক্ষমাশীল।
৩. যিনি স্তরে স্তরে সাত আসমান সৃষ্টি করিয়াছেন, তুমি রহমানের সৃষ্টিতে কোন ব্যতিক্রম দেখিতে পাইবেনা, চোখ উঠাইয়া দেখ-তুমি কি উহাতে কোন ফাঁকা বা ফাঁটা দেখিতেছ? আবার দ্বিতীয়বারে দৃষ্টি নিক্ষেপ কর।
৪. তোমার দৃষ্টি অসমর্থ ও ক্লান্ত হইয়া তোমার দিকে ফিরিয়া আসিবে এবং
৫. নিশ্চয় আমি এই দুনিয়ার আসমানকে প্রদীপ সমূহ (তারাগুলি) দ্বারা সাজাইয়া রাখিয়াছি এবং শয়তানদিগকে বিতাড়িত করিবার জন্য উহা (উল্কা রূপে)সৃষ্টি করিয়াছি এবং আমি তাহাদের (শয়তানের) জন্য আগুনের আজাব প্রস্তত করিয়া রাখিয়াছি।
৬. এবং যাহারা স্বীয় প্রতিপালককে অবিশ্বাস করে তাহাদের জন্য দোজখের আজাব রহিয়াছে এবং উহা ফিরিয়া যাইবার জঘন্য স্থান
৭. যখন তাহারা তাহাতে নিক্ষিপ্ত হইবে, তখন তাহার উহার গর্জন শুনিবে যেন উহা (শব্দ করিয়া) ফুটিতেছে
৮. বুঝা যায় যেন রাগভরে ফাটিয়া যাইবে। যখন কোন একদলকে তাহাতে নিক্ষেপ করা হইবে, তখন (দোজখের) দারোগা তাহাদিগকে জিজ্ঞাস করিবে যে, তোমাদের নিকট কি কোন ভয় প্রদর্শক আসিয়াছিলেন না?
৯. তাহারা বলিবে, হ্যাঁ; নিশ্চয় আমাদের নিকট ভয় প্রদর্শক আসিয়াছিলেন, কিন্তু আমরা অবিশ্বাস করিয়াছিলাম এবং বলিয়াছিলাম যে, আল্লাহ কোন কিছুই নাযিল করেন নাই, তবেতো তোমরা বড় গুমরাহ
১০. এবং তাহারা বলিবে যে, যদি আমরা উহা শুনিতাম কিংবা বুঝিতাম, তবে আমরা দোজখবাসী হইতামনা।
১১. এখন তাহারা নিজের অপরাধ স্বীকার করিবে, কিন্তু দোজখীদের জন্য পরিতাপ!
১২. নিশ্চয় যাহারা না দেখিয়া স্বীয় প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের জন্য মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং বড় ছওয়াব রহিয়াছে।
১৩. আর তোমরা নিজের কথা আস্তে বল অথবা শব্দ করিয়া, নিশ্চয় তিনি দিলের বিষয় ভাল রকম জানেন,
১৪. তিনি কি জানিবেন না যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন? এবং যিনি সূক্ষদর্শী জ্ঞানী।
১৫. তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে নরম মোলায়েম করিয়া দিয়াছেন- যেন তোমরা উহার রাস্তাসমুহ দিয়া চলাফেরা কর এবং তাহার (দেওয়া) রিজিক হইতে খাও
১৬. এবং তাহারই দিকে উঠিতে হইবে, আছমানে যাহার আধিপত্য তিনি যে তোমাদিগকে এই পৃথিবীতে ধ্বসাইয়া দিবেন আর পৃথিবী তখন কাঁপিতে থাকিবে, সে বিষয়ে তোমরা কি নিশ্চিত?
১৭. অথবা আছমানে যাহার রাজত্ব তিনি যে তোমাদের উপর পাথর বর্ষন করিবেন, তাহার সম্বন্ধে তোমরা কি নিশ্চিত? তবে এখন তোমরা জানিতে পারিবে যে, আমার ভয় দেখানো কেমন ছিল।
১৮. নিশ্চয় তাহাদের পূর্বে যাহারা অস্বীকার করিয়াছিল, তখন তাহাদের প্রতি আমার শাস্তি কিরূপ রহিয়াছিল।
১৯. তাহারা কি তাহাদের উপরে প্রসারিত ও সঙ্কুচিত ডানাবিশিষ্ট পাখিসমুহের প্রতি লক্ষ্য করেনা? দয়াময় (আল্লাহ) ব্যতীত কেহই উহাদিগকে (আসমানে) স্থির রাখেনা, নিশ্চয় তিনি সবকিছু দেখেন।
২০. দয়াময় (আল্লাহ) ব্যতীত কে তোমাদিগকে তোমাদের সৈন্যরূপে সাহায্য করিবে? (আজাব সরাইতে) – কাফেরগন ধোকায় পড়িয়া রহিয়াছে।
২১. যদি তিনি রিজিক-রুজী বন্ধ করিয়া দেন, তবে কে তোমাদিগকে রিজিক দিবে? বরং তাহারা অহংকার ও গরিমায় এবং হক হইতে দূরে সরিয়া থাকায় ব্যাপৃত রহিয়াছে,
২২. তবে কি যে সামনের দিকে ঝুঁকিয়া চলে (ডানে বামে দেখেনা) সেই অধিকতর হেদায়েতের উপর না যাহারা সরল পথে সোজা চলে?
২৩. আপনি বলুন, তিনিই তোমাদিগকে পয়দা করিয়াছেন এবং তোমাদের জন্য কান ও চোখ এবং দিল বানাইয়াছেন, তোমরা অতি অল্পই তাঁহার শোকর কর।
২৪. আপনি বলুন, তিনিই তোমাদিগকে সম্প্রসারিত করিয়াছেন এবং তাহারই দিকে তোমরা হাশর করিবে
২৫. এবং তাহারা বলে যে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে (বল) কবে এই ওয়াদা (আজাব বা কিয়ামত) আসিবে?
২৬. আপনি বলিয়া দিন যে, উহা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আর আমিতো পরিষ্কারভাবে ভয় প্রদর্শনকারী মাত্র।
২৭. আবার যখন (কৃত আজাব) নিকটে (আসিয়াছে) দেখিবে, তখন কাফেরদের চেহারা কালো হইয়া যাইবে এবং তাহাদিগকে বলা হইবে যে, ইহাই তাহা, যাহা তোমরা আহ্বান করিতে।
২৮. আপনি বলুন, তোমরা কি লক্ষ্য করিয়াছ যে, যদি আল্লাহ আমাকে ও আমার সাথীদিগকে বিনষ্ট করিয়া ফেলেন অথবা আমার প্রতি দয়া করেন, তবে যন্ত্রনাদায়ক আজাব হইতে কাফেরদিগকে কে রক্ষা করিবে?
২৯. আপনি বলুন, তিনিই মেহেরবান দয়ালু – এবং তাহার উপর আমরা ঈমান আনিয়াছি এবং তাহার উপরই আমাদের ভরসা। অতি সত্বর তোমরা বুঝিতে পারিবে যে, কে প্রকাশ্য গুমরাহীতে রহিয়াছে।
৩০. আপনি বলুন, তোমরা কি লক্ষ্য করিয়াছ যে, যদি তোমাদের পানি শুকাইয়া যায়, তবে কে তোমাদিগকে প্রবাহিত পানি আনিয়া দিবে?


ফজীলত
. যে ব্যক্তি প্রত্যহ সুরা পড়িবে, সে গোর আজাব কেয়ামতের দিন মুছিবত হইতে আজাব পাইবে।
২. এই সুরা ৪১ বার পড়িলে বিপদ উদ্ধার হয় ও ঋণ পরিশোধ হয়। যে ব্যক্তি নিয়মিত ভাবে এই সুরা পড়িবে কিয়ামতের দিন ইহা তাহার জন্য আল্লাহর নিকট শাফাআ’ত করিবে এবং গুনাহ মাফ করাইয়া তাহাকে বেহেশতে লইয়া যাইবে।
৩. নতুন চাঁদ উঠিবার সময় এই সুরা পড়িলে পূর্ণ মাস নিরাপদে কাটিবে। এই সুরা তিন দিন প্রত্যহ তিনবার করিয়া পড়িয়া চোখের উপর দম করিলে চক্ষু রোগ আরোগ্য হয়।
৪. সর্বদা এই সুরা আমল করিলে গোর আজাব হইতে রেহাই পাওয়া যায় এবং নিন্মলিখিত ৫টি কাজ করিলেও গোর আজাব মাফ হয়:-
       ১. নিয়মিত ভাবে নামাজ পড়িলে।
       ২. দীন দু:খিকে দান খয়রাত করিলে
       ৩. সর্বদা সুবহানাল্লাহ পড়িলে
       ৪. শুদ্ধরূপে কোরআন শরীফ পড়িলে
       ৫. প্রসাব করিয়া প্রথমত ঢিলা কুলুখ দ্বারা পাক হইয়া পরে পানি লইলে।
আর নিন্মলিখিত তিনটি কাজ বর্জন করিবে:-
       ১. মিথ্যা বলা
       ২. গীবত অর্থাপর নিন্দা করা
       ৩. চোখলখুরী অর্থাকুটনিপনা করা।

No comments:

Post a Comment