রুকু : ২ আয়াত
: ৩১
পরম করুনাময় পরম
দয়াময় আল্লাহর
নামে শুরু
১. জীবনলাভের পূর্বে এমন কিছু
সময় কেটেছে যখন মানবসত্তা উল্লেখযোগ্য কিছু ছিলনা।
২. আমিতো মানুষকে সৃষ্টি করেছি
মিলিত শুক্রবিন্দু থেকে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য। এজন্য আমি তাকে শোনার ও দেখার শক্তি
দিয়েছি।
৩. আমি তাকে পথের নির্দেশ
দিয়েছি; হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।
৪. আমি অকৃতজ্ঞদের জন্য প্রস্তুত
রেখেছি শেকল-বেড়ি ও লেলিহান আগুন।
৫. সৎকর্মপরায়নরা
পান করবে কাফুরের পানি মেশানো শরাব।
৬. এ এক বিশেষ ঝরনা যার থেকে
আল্লাহর দাসরা পান করবে, তারা এ ঝরনাকে যেখানে ইচ্ছা বওয়াতে পারবে।
৭. তারা তাদের মানত পূর্ণ
করে ও সেদিনের ভয় করে যেদিন ধ্বংসলীলা হবে ব্যাপক।
৮. খাবারের প্রতি দূর্বলতা
সত্ত্বেও, তারা অভাবগ্রস্থ, পিতৃহীন ও বন্দীকে খাবার দান করে,
৯. আর বলে, ‘কেবলমাত্র আ্ল্লাহর
সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাবার দিচ্ছি, আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান
চাইনা, কৃতজ্ঞতাও নয়।
১০. আমরা ভয় করি আমাদের প্রতিপালকের
কাছ থেকে এক ভীতিকর ভয়ংকর দিনের।’
১১. পরিনামে আল্লাহ তাদেরকে
সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন ও তাদেরকে দিবেন প্রফুল্লতা ও আনন্দ।
১২. আর তাদের ধৈর্যশীলতার
পুরষ্কার স্বরূপ তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমি পোষাক।
১৩. সেখানে তারা সুসজ্জিত
আসনে বসবে। তারা সেখানে খুব গরম বা খুব শীত বোধ করবেনা।
১৪. তাদের উপর থাকবে পাশের
(গাছের) ছায়া ও তার ফলগুলো ঝুঁকে থাকবে নিচের দিকে।
১৫. তাদের পরিবেশন করা হবে
রৌপ্য পাত্রে, স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানপাত্রে,
১৬. রজতশুভ্র স্ফটিকপাত্রে,
আর পরিবেশনকারীরা যথাযথ পরিমানে তা পূর্ণ করবে।
১৭. সেখানে তাদেরকে পান করতে
দেওয়া হবে জানজাবিলের পানিমিশ্রিত এক পানীয়,
১৮. সেখানে থাকবে সালসাবিল
নামক এক ঝরনা।
১৯. তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে
চিরকিশোরেরা, যাদেরকে দেখে মনে হবে ওরা যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তো।
২০. তুমি যখন সেখানে তাকাবে,
দেখতে পাবে পরম সুখের এক বিশাল রাজ্য।
২১. তাদের আভরন হবে সূক্ষ্ম
বা মোটা সবুজ রেশম। তাদেরকে পরানো হবে রুপার কঙ্কণ। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন
বিশুদ্ধ পানীয়।
২২. বলা হবে, ‘এ তোমাদের পুরষ্কার
আর তোমাদের কর্মের স্বীকৃতি।’
২
২৩. আমি পর্যায়ক্রমে তোমার
উপর কোরআন অবতীর্ন করেছি।
২৪. অতএব তুমি ধৈর্যের সাথে
তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষা কর এবং ওদের মধ্যে যে পাপিষ্ঠ বা অবিশ্বাসী তার
আনুগত্য করোনা।
২৫. আর তুমি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায়
তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরন কর।
২৬. তুমি রাত্রিতে তাঁর কাছে
সিজদায় মাথা নত কর ও রাত্রির বেশীরভাগ সময় তাঁর পবিত্র মহিমা ঘোষনা কর।
২৭. ওরা সহজলভ্য পার্থিবজীবনকে
ভালবাসে এবং পরবর্তী কঠিন দিনকে উপেক্ষা করে চলে।
২৮. আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি
ও তাদের গঠন মজবুদ করেছি এবং যখন ইচ্ছা করবো তখন তাদের স্থলে তাদের অনুরুপ অন্য জাতিকে
প্রতিষ্ঠিত করবো।
২৯. এ এক উপদেশ, অতএব যার
ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের পথ অবলম্বন করুক।
৩০. আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তোমাদের
ইচ্ছা কার্যকর হবেনা। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, তত্ত্বজ্ঞানী।
৩১. তিনি যাকে ইচ্ছা তার অনুগ্রহের
অন্তর্ভুক্ত করেন; কিন্তু সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন ভয়ানক শাস্তি।