Saturday, October 1, 2011

৭৬. সুরা দাহর


রুকু : আয়াত : ৩১
পরম করুনাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু

১. জীবনলাভের পূর্বে এমন কিছু সময় কেটেছে যখন মানবসত্তা উল্লেখযোগ্য কিছু ছিলনা।
২. আমিতো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু থেকে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য। এজন্য আমি তাকে শোনার ও দেখার শক্তি দিয়েছি।
৩. আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি; হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।
৪. আমি অকৃতজ্ঞদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি শেকল-বেড়ি ও লেলিহান আগুন।
৫. সকর্মপরায়নরা পান করবে কাফুরের পানি মেশানো শরাব।
৬. এ এক বিশেষ ঝরনা যার থেকে আল্লাহর দাসরা পান করবে, তারা এ ঝরনাকে যেখানে ইচ্ছা বওয়াতে পারবে।
৭. তারা তাদের মানত পূর্ণ করে ও সেদিনের ভয় করে যেদিন ধ্বংসলীলা হবে ব্যাপক।
৮. খাবারের প্রতি দূর্বলতা সত্ত্বেও, তারা অভাবগ্রস্থ, পিতৃহীন ও বন্দীকে খাবার দান করে,
৯. আর বলে, ‘কেবলমাত্র আ্ল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাবার দিচ্ছি, আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান চাইনা, কৃতজ্ঞতাও নয়।
১০. আমরা ভয় করি আমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে এক ভীতিকর ভয়ংকর দিনের।’
১১. পরিনামে আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন ও তাদেরকে দিবেন প্রফুল্লতা ও আনন্দ।
১২. আর তাদের ধৈর্যশীলতার পুরষ্কার স্বরূপ তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমি পোষাক।
১৩. সেখানে তারা সুসজ্জিত আসনে বসবে। তারা সেখানে খুব গরম বা খুব শীত বোধ করবেনা।
১৪. তাদের উপর থাকবে পাশের (গাছের) ছায়া ও তার ফলগুলো ঝুঁকে থাকবে নিচের দিকে।
১৫. তাদের পরিবেশন করা হবে রৌপ্য পাত্রে, স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানপাত্রে,
১৬. রজতশুভ্র স্ফটিকপাত্রে, আর পরিবেশনকারীরা যথাযথ পরিমানে তা পূর্ণ করবে।
১৭. সেখানে তাদেরকে পান করতে দেওয়া হবে জানজাবিলের পানিমিশ্রিত এক পানীয়,
১৮. সেখানে থাকবে সালসাবিল নামক এক ঝরনা।
১৯. তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে চিরকিশোরেরা, যাদেরকে দেখে মনে হবে ওরা যেন বিক্ষিপ্ত মুক্তো।
২০. তুমি যখন সেখানে তাকাবে, দেখতে পাবে পরম সুখের এক বিশাল রাজ্য।
২১. তাদের আভরন হবে সূক্ষ্ম বা মোটা সবুজ রেশম। তাদেরকে পরানো হবে রুপার কঙ্কণ। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন বিশুদ্ধ পানীয়।
২২. বলা হবে, ‘এ তোমাদের পুরষ্কার আর তোমাদের কর্মের স্বীকৃতি।’


২৩. আমি পর্যায়ক্রমে তোমার উপর কোরআন অবতীর্ন করেছি।
২৪. অতএব তুমি ধৈর্যের সাথে তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষা কর এবং ওদের মধ্যে যে পাপিষ্ঠ বা অবিশ্বাসী তার আনুগত্য করোনা।
২৫. আর তুমি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরন কর।
২৬. তুমি রাত্রিতে তাঁর কাছে সিজদায় মাথা নত কর ও রাত্রির বেশীরভাগ সময় তাঁর পবিত্র মহিমা ঘোষনা কর।
২৭. ওরা সহজলভ্য পার্থিবজীবনকে ভালবাসে এবং পরবর্তী কঠিন দিনকে উপেক্ষা করে চলে।
২৮. আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি ও তাদের গঠন মজবুদ করেছি এবং যখন ইচ্ছা করবো তখন তাদের স্থলে তাদের অনুরুপ অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবো।
২৯. এ এক উপদেশ, অতএব যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের পথ অবলম্বন করুক।
৩০. আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তোমাদের ইচ্ছা কার্যকর হবেনা। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, তত্ত্বজ্ঞানী।
৩১. তিনি যাকে ইচ্ছা তার অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করেন; কিন্তু সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন ভয়ানক শাস্তি।

৭৫. সুরা কিয়ামা



রুকু : আয়াত : ৪০
পরম করুনাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু

১. আমি শপথ করছি কিয়ামত দিনের।
২. আমি আরও শপথ করছি সেই আত্মার যে নিজের কাজের জন্য নিজেকে ধিক্কার দেয়।
৩. মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার হাড়গুলো একত্র করতে পারবোনা?
৪. আসলে আমি ওর আঙ্গুলের গিরা পর্যন্ত আবার সাজাতে পারবো।
৫. তবুও মানুষ তা অস্বীকার করতে চায়, যা তার সামনে আছে।
৬. মানুষ প্রশ্ন করে ‘কবে কিয়ামতের দিন আসবে?’
৭. যখন চক্ষু স্থির হয়ে যাবে,
৮. চন্দ্র হয়ে পড়বে জ্যোতিহীন,
৯. এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্র করা হবে।
১০. সেদিন মানুষ বলবে, ‘আজ পালাবার জায়গা কোথায়?’
১১. না, কোথাও কোন আশ্রয় নেওয়ার ঠাঁই নেই।
১২. সেইদিন ঠাঁই হবে তোমার প্রতিপালকের কাছে।
১৩. সেইদিন মানুষকে জানানো হবে সে কি করেছে ও কি করেনি।
১৪. মানুষ নিজেই হবে তার নিজের কাজের দ্রষ্টা,
১৫. যদিও সে নিজের দোষত্রুটি ঢাকতে চাইবে।
১৬. এ (প্রত্যাদেশ) তাড়াতাড়ি (আয়ত্ত) করার জন্য তুমি এর সংগে তোমার জিব নেড়োনা।
১৭. এ সংরক্ষন ও আবৃত্তি করানোর (ভার) আমারই।
১৮. সুতরাং যখন আমি পড়ি তুমি সেই পাঠের অনুসরন করো।
১৯. তারপর এর বিশদ ব্যাখ্যার (দায়িত্ব) আমারই।
২০. না, তোমরা প্রকৃতপক্ষে পার্থিব জীবনকে ভালবাস,
২১. এবং পরকালকে উপেক্ষা কর।
২২. সেদিন কোন কোন মানুষের মুখ উজ্জ্বল হবে।
২৩. তারা তাদের প্রতিপালকের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
২৪. কারও কারও মুখ বিবর্ন হয়ে পড়বে,
২৫. এই ভয়ে যে, এক প্রলয়কারী বিপর্যয় আসন্ন।
২৬. যখন প্রাণ হবে কন্ঠাগত,
২৭. এবং বলা হবে, ‘কে তাকে রক্ষা করবে?’
২৮. তখন তার মনে হবে যে, এই শেষ বিদায়।
২৯. বিপদের পর বিপদ এসে পড়বে।
৩০. সেদিন সবকিছু আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।


৩১. সে বিশ্বাস করেনি ও নামাজ পড়েনি,
৩২. বরং সে অবিশ্বাস করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।
৩৩. তারপর সে দেমাক করে তার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়েছিল।
৩৪. দুর্ভোগ তোমার জন্য। আরও দুর্ভোগ।
৩৫. আবার (বলি) দুর্ভোগ তোমার জন্য। আরও দুর্ভোগ।
৩৬. মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে?
৩৭. সে কি স্খলিত শুক্রবিন্দু ছিলনা?
৩৮. তারপর সে কি রক্তপিন্ডে পরিনত হয়নি? তারপর আল্লাহ কি তাকে আকার দান ও সুঠাম করেননি?
৩৯. তারপর তিনি তার থেকে সৃষ্টি করেননি যুগল নর ও নারী?
৪০. এর পরও তাঁর কি মৃতকে জীবিত করার শক্তি নেই?


৭৪. মুদ্ দাসসির



রুকু: ২ আয়াত: ৫৬

পরম করুনাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু

১. ওহে, তুমি যে কিনা নিজেকে কাপড়ে ডেকে রেখেছ।
২. ওঠো, সাবধানবানী প্রচার কর
৩. ও তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষনা কর।
৪. পবিত্র কর তোমার কাপড়।
৫. আর অপবিত্র থেকে দুরে থাক।
৬. বেশী পাওয়ার আশায় তুমি অপরকে কিছু দিবেনা।
৭. আর তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধর।
৮. যেদিন শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে সেদিনটি হবে
৯. এক সংকটের দিন।
১০. অবিশ্বাসীদের জন্য তা কঠিন।
১১. তাকে (সেই মানুষকে) আমার হাতে ছেড়ে দাও যাকে আমি সৃষ্টি করেছি অসাধারন করে।
১২. আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন-সম্পদ
১৩ ও নিত্যসঙ্গী পুত্রদের,
১৪. আর সচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরন।
১৫. এরপরও সে কামনা করে যে, আমি তাকে আরও দেই।
১৬. না, তা হবে না; জেনেশুনে সে আমার নিদর্শনের বিরোধিতা করতে বদ্ধপ্রতিজ্ঞ।
১৭. আমি তাকে এমন শাস্তি দিয়ে আচ্ছন্ন করব যা ক্রমে বৃদ্ধি পাবে।
১৮. সেতো চিন্তা করে এ সিদ্ধান্তে এসেছে!
১৯. অভিশপ্ত হোক সে, কেমন করে সে এ-সিদ্ধান্ত করলো!
২০. আরও অভিশপ্ত হোক সে, কেমন করে সে এ-সিদ্ধান্তে পৌঁছালো!
২১. সে আবার চেয়ে দেখল।
২২. তারপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল।
২৩. তারপর সে একবার পিছিয়ে গেল ও পরে দম্ভভরে ফিরে এল,
২৪. আর বলল, ‘এ তো লোকপরষ্পরায় প্রাপ্ত জাদু ছাড়া আর কিছু নয়।
২৫. এ তো মানুষেরই কথা।’
২৬. আমি তাকে সাকার-এ ছুড়ে ফেলব।
২৭. তুমি কি জান সাকার কি?
২৮. তা ওদের বাঁচতেও দিবেনা, মরতেও দিবে না,
২৯. গায়ের চামড়া পুরিয়ে ফেলবে।
৩০. এর উপরে রয়েছে উনিশ (জন প্রহরী)।
৩১. আমি ফেরেশতাদেরই জাহান্নামের প্রহরী করেছি। অবিশ্বাসীদের পরীক্ষার জন্য আমি ওদের এ সংখ্যা উল্লেখ করছি যাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বাড়ে, আর বিশ্বাসীরা ও কিতাবীরা সন্দেহ পোষন না করে। এর ফলে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা ও অবিশ্বাসীরা বলবে, ‘আল্লাহ এ দৃষ্টান্ত দিয়ে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?’ এভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ দেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। জাহান্নামের এ বর্ননাতো মানুষের জন্য সাবধানবানী।


৩২. না, শপথ চন্দ্রের! ওরা এতে কর্নপাত করবেনা।
৩৩. শপথ রাত্রির, যখন তা শেষ হয়!
৩৪. শপথ সকালের, যখন তা আলোয় উজ্জ্বল!
৩৫. এ জাহান্নাম – এক ভয়ানক বিপদ।
৩৬. এ মানুষকে সতর্ক করার জন্য,
৩৭. তোমাদের মধ্যে যে কল্যানের পথে অগ্রসর হতে চায় আর যে কল্যানের পথ হতে পিছিয়ে পড়ে, দুয়েরই উদ্দেশে।
৩৮. প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের দুষ্কৃতির জন্য দায়ী থাকবে,
৩৯. তবে যারা ডান পাশে আছে তারা নয়।
৪০. জান্নাতে তারা পরষ্পরকে জিঞ্জাসা করবে,
৪১. অপরাধীদের সম্পর্কে,
৪২. বলবে, ‘তোমাদেরকে কিসে সাকার-এ নিয়ে এল?’
৪৩. ওরা বলবে, ‘আমরা নামাজ পড়তামনা,
৪৪. আমরা অভাবীকে খাবার দিতামনা,
৪৫. আর যারা অবাস্তব কথা বলে তাদের সাথে যোগ দিয়ে বাজে কথা বলতাম।
৪৬. আমরা বিচার দিনকে অস্বিকার করেছি,
৪৭. আমাদের কাছে অবধারিত মৃত্যু আসা পর্যন্ত।’
৪৮. তাই সুপারিশকারীদের সুপারিশ ওদের কোন কাজে আসবেনা।
৪৯. ওদের কি হয়েছে যে, ওরা এই উপদেশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?
৫০. ওরা যেন ভীতচকিত গর্দভ,
৫১. যারা সিংহের সামনে থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।
৫২. নাকি, ওরা প্রত্যেকেই চায় ওদের প্রত্যেককে আলাদা করে এক-একটা উন্মক্ত গ্রন্থ দেওয়া হোক?
৫৩. না, এ হবার নয়। ওদেরতো পরকালের ভয় নেই।
৫৪. না, এতো এক অনুশাসন।
৫৫. অতএব যার ইচ্ছা সে এ থেকে শিক্ষা গ্রহন করুক।
৫৬. আল্লাহর ইচ্ছা না হলে কেউ এ থেকে গ্রহন করতে পারবেনা। তিনিই একমাত্র ভয় করার যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।


৭৩. সুরা মুজ্জাম্মিল


রুকু: আয়াত: ২০

পরম করুনাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু

১. ওহে, তুমি যে কিনা নিজেকে চাদরে জড়িয়ে রেখেছ!
২. তুমি রাত্রিতে প্রার্থনার জন্য দাঁড়াও, রাত্রির কিছু অংশ বাদ দিয়ে,
৩. অর্ধেক অথবা তার কিছু কম
৪. বা বেশী্। তুমি কোরআন আবৃত্তি কর ধীরে ধীরে, স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে,
৫. আমি তোমাদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ন বাণী অবতীর্ন করতে যাচ্ছি।
৬. রাত্রিতে উঠে উপাসনা মনোনিবেশ ও হৃদয়ঙ্গম করার পক্ষে উপযুক্ত।
৭. দিনে নিশ্চয় তোমাদের কর্মব্যস্ততা রয়েছে।
৮. সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরন কর আর একনিষ্ঠভাবে তাঁর কাছে আত্মনিবেদন কর।
৯. তিনি উদয়াচল ও অস্তাচলের প্রতিপালক, তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই, অতএব তুমি তাঁকেই কর্মবিধায়করূপে গ্রহন কর।
১০. লোকে যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধরো, আর সৌজন্য সহকারে ওদেরকে এড়িয়ে চল।
১১. বিলাসবস্তুর অধিকারী অবিশ্বাসীদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দাও।
১২. আমার কাছে আছে শিকল, জ্বলন্ত আগুন,
১৩. গলায় আটকে যায় এমন খাবার আর কঠিন শাস্তি।
১৪. সেদিন পৃথিবী ও পর্বতমালা প্রকম্পিত হবে এবং পর্বতগুলো হবে চলমান বালির ঢিপি।
১৫. আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি এক রসুল তোমাদের সাক্ষীরূপে যেমন রসুল পাঠিয়েছিলাম ফেরাউনের কাছে,
১৬. কিন্তু ফেরাউন সে রসুলকে অমান্য করেছিল, যার জন্য আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছিলাম।
১৭. অতএব তোমরা কি করে আত্মরক্ষা করবে যদি তোমরা সেই দিনকে অস্বীকার কর, যে-দিন তরুনকে করবে বৃদ্ধ,
১৮. আর যে-দিন আকাশ হবে বিদীর্ন? তাঁর ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
১৯. নিশ্চয় এ এক অনুশাসন। অতএব যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের পথ অনুসরন করুক।


২০. তোমার প্রতিপালক তো জানেন তুমি কখনও রাত্রির প্রায় তিনের দুইভাগ, কখনও অর্ধেক, আবার কখনও তিনের একভাগ জেগে থাক। আর তোমার সঙ্গীদের একটি দলও জেগে থাকে। আল্লাহই দিন ও রাত্রির সঠিক হিসাব রাখেন। তিনি জানেন যে, তোমরা এর সঠিক হিসাব রাখতে পারবেনা। সেজন্য আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ। তাই কোরআনের যতটুকু আবৃত্তি করা তোমাদের পক্ষে সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। আল্লাহতো জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্হ হয়ে পড়বে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে সফরে যাবে, আর কেউ কেউ আল্লাহর পথে সংগ্রামে ব্যস্ত থাকবে; কাজেই কোরআন থেকে যতটুকু আবৃত্তি করা তোমাদের জন্য সহজ তোমরা ততটুকু আবৃত্তি কর। তোমরা নামাজ কায়েম কর, যাকাত দাও আর আল্লাহকে দাও উত্তম ঋণ। তোমাদের আত্মার মঙ্গলের জন্য তোমরা যা কিছু ভাল আগে পাঠাবে, পরিবর্তে তোমরা তার চেয়ে আরও ভাল ও বড় পুরুষ্কার পাবে আল্লাহর কাছ থেকে। আর তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর আল্লাহর কাছে। আল্লাহ তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।


৬৭. সুরা মুলক



পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করিতেছি

১. তিনি বড়ই বরকত ওয়ালা – যাহার হাতে ক্ষমতা ও আধিপত্য, তিনি সকল বিষয়ের উপর শক্তিশালী।
২. তিনি মউত ও হায়াত পয়দা করিয়াছেন, যেন তিনি তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে কে অধিকতর নেককার, আর তিনি ইজ্জতওয়ালা ক্ষমাশীল।
৩. যিনি স্তরে স্তরে সাত আসমান সৃষ্টি করিয়াছেন, তুমি রহমানের সৃষ্টিতে কোন ব্যতিক্রম দেখিতে পাইবেনা, চোখ উঠাইয়া দেখ-তুমি কি উহাতে কোন ফাঁকা বা ফাঁটা দেখিতেছ? আবার দ্বিতীয়বারে দৃষ্টি নিক্ষেপ কর।
৪. তোমার দৃষ্টি অসমর্থ ও ক্লান্ত হইয়া তোমার দিকে ফিরিয়া আসিবে এবং
৫. নিশ্চয় আমি এই দুনিয়ার আসমানকে প্রদীপ সমূহ (তারাগুলি) দ্বারা সাজাইয়া রাখিয়াছি এবং শয়তানদিগকে বিতাড়িত করিবার জন্য উহা (উল্কা রূপে)সৃষ্টি করিয়াছি এবং আমি তাহাদের (শয়তানের) জন্য আগুনের আজাব প্রস্তত করিয়া রাখিয়াছি।
৬. এবং যাহারা স্বীয় প্রতিপালককে অবিশ্বাস করে তাহাদের জন্য দোজখের আজাব রহিয়াছে এবং উহা ফিরিয়া যাইবার জঘন্য স্থান
৭. যখন তাহারা তাহাতে নিক্ষিপ্ত হইবে, তখন তাহার উহার গর্জন শুনিবে যেন উহা (শব্দ করিয়া) ফুটিতেছে
৮. বুঝা যায় যেন রাগভরে ফাটিয়া যাইবে। যখন কোন একদলকে তাহাতে নিক্ষেপ করা হইবে, তখন (দোজখের) দারোগা তাহাদিগকে জিজ্ঞাস করিবে যে, তোমাদের নিকট কি কোন ভয় প্রদর্শক আসিয়াছিলেন না?
৯. তাহারা বলিবে, হ্যাঁ; নিশ্চয় আমাদের নিকট ভয় প্রদর্শক আসিয়াছিলেন, কিন্তু আমরা অবিশ্বাস করিয়াছিলাম এবং বলিয়াছিলাম যে, আল্লাহ কোন কিছুই নাযিল করেন নাই, তবেতো তোমরা বড় গুমরাহ
১০. এবং তাহারা বলিবে যে, যদি আমরা উহা শুনিতাম কিংবা বুঝিতাম, তবে আমরা দোজখবাসী হইতামনা।
১১. এখন তাহারা নিজের অপরাধ স্বীকার করিবে, কিন্তু দোজখীদের জন্য পরিতাপ!
১২. নিশ্চয় যাহারা না দেখিয়া স্বীয় প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের জন্য মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং বড় ছওয়াব রহিয়াছে।
১৩. আর তোমরা নিজের কথা আস্তে বল অথবা শব্দ করিয়া, নিশ্চয় তিনি দিলের বিষয় ভাল রকম জানেন,
১৪. তিনি কি জানিবেন না যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন? এবং যিনি সূক্ষদর্শী জ্ঞানী।
১৫. তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে নরম মোলায়েম করিয়া দিয়াছেন- যেন তোমরা উহার রাস্তাসমুহ দিয়া চলাফেরা কর এবং তাহার (দেওয়া) রিজিক হইতে খাও
১৬. এবং তাহারই দিকে উঠিতে হইবে, আছমানে যাহার আধিপত্য তিনি যে তোমাদিগকে এই পৃথিবীতে ধ্বসাইয়া দিবেন আর পৃথিবী তখন কাঁপিতে থাকিবে, সে বিষয়ে তোমরা কি নিশ্চিত?
১৭. অথবা আছমানে যাহার রাজত্ব তিনি যে তোমাদের উপর পাথর বর্ষন করিবেন, তাহার সম্বন্ধে তোমরা কি নিশ্চিত? তবে এখন তোমরা জানিতে পারিবে যে, আমার ভয় দেখানো কেমন ছিল।
১৮. নিশ্চয় তাহাদের পূর্বে যাহারা অস্বীকার করিয়াছিল, তখন তাহাদের প্রতি আমার শাস্তি কিরূপ রহিয়াছিল।
১৯. তাহারা কি তাহাদের উপরে প্রসারিত ও সঙ্কুচিত ডানাবিশিষ্ট পাখিসমুহের প্রতি লক্ষ্য করেনা? দয়াময় (আল্লাহ) ব্যতীত কেহই উহাদিগকে (আসমানে) স্থির রাখেনা, নিশ্চয় তিনি সবকিছু দেখেন।
২০. দয়াময় (আল্লাহ) ব্যতীত কে তোমাদিগকে তোমাদের সৈন্যরূপে সাহায্য করিবে? (আজাব সরাইতে) – কাফেরগন ধোকায় পড়িয়া রহিয়াছে।
২১. যদি তিনি রিজিক-রুজী বন্ধ করিয়া দেন, তবে কে তোমাদিগকে রিজিক দিবে? বরং তাহারা অহংকার ও গরিমায় এবং হক হইতে দূরে সরিয়া থাকায় ব্যাপৃত রহিয়াছে,
২২. তবে কি যে সামনের দিকে ঝুঁকিয়া চলে (ডানে বামে দেখেনা) সেই অধিকতর হেদায়েতের উপর না যাহারা সরল পথে সোজা চলে?
২৩. আপনি বলুন, তিনিই তোমাদিগকে পয়দা করিয়াছেন এবং তোমাদের জন্য কান ও চোখ এবং দিল বানাইয়াছেন, তোমরা অতি অল্পই তাঁহার শোকর কর।
২৪. আপনি বলুন, তিনিই তোমাদিগকে সম্প্রসারিত করিয়াছেন এবং তাহারই দিকে তোমরা হাশর করিবে
২৫. এবং তাহারা বলে যে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে (বল) কবে এই ওয়াদা (আজাব বা কিয়ামত) আসিবে?
২৬. আপনি বলিয়া দিন যে, উহা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আর আমিতো পরিষ্কারভাবে ভয় প্রদর্শনকারী মাত্র।
২৭. আবার যখন (কৃত আজাব) নিকটে (আসিয়াছে) দেখিবে, তখন কাফেরদের চেহারা কালো হইয়া যাইবে এবং তাহাদিগকে বলা হইবে যে, ইহাই তাহা, যাহা তোমরা আহ্বান করিতে।
২৮. আপনি বলুন, তোমরা কি লক্ষ্য করিয়াছ যে, যদি আল্লাহ আমাকে ও আমার সাথীদিগকে বিনষ্ট করিয়া ফেলেন অথবা আমার প্রতি দয়া করেন, তবে যন্ত্রনাদায়ক আজাব হইতে কাফেরদিগকে কে রক্ষা করিবে?
২৯. আপনি বলুন, তিনিই মেহেরবান দয়ালু – এবং তাহার উপর আমরা ঈমান আনিয়াছি এবং তাহার উপরই আমাদের ভরসা। অতি সত্বর তোমরা বুঝিতে পারিবে যে, কে প্রকাশ্য গুমরাহীতে রহিয়াছে।
৩০. আপনি বলুন, তোমরা কি লক্ষ্য করিয়াছ যে, যদি তোমাদের পানি শুকাইয়া যায়, তবে কে তোমাদিগকে প্রবাহিত পানি আনিয়া দিবে?


ফজীলত
. যে ব্যক্তি প্রত্যহ সুরা পড়িবে, সে গোর আজাব কেয়ামতের দিন মুছিবত হইতে আজাব পাইবে।
২. এই সুরা ৪১ বার পড়িলে বিপদ উদ্ধার হয় ও ঋণ পরিশোধ হয়। যে ব্যক্তি নিয়মিত ভাবে এই সুরা পড়িবে কিয়ামতের দিন ইহা তাহার জন্য আল্লাহর নিকট শাফাআ’ত করিবে এবং গুনাহ মাফ করাইয়া তাহাকে বেহেশতে লইয়া যাইবে।
৩. নতুন চাঁদ উঠিবার সময় এই সুরা পড়িলে পূর্ণ মাস নিরাপদে কাটিবে। এই সুরা তিন দিন প্রত্যহ তিনবার করিয়া পড়িয়া চোখের উপর দম করিলে চক্ষু রোগ আরোগ্য হয়।
৪. সর্বদা এই সুরা আমল করিলে গোর আজাব হইতে রেহাই পাওয়া যায় এবং নিন্মলিখিত ৫টি কাজ করিলেও গোর আজাব মাফ হয়:-
       ১. নিয়মিত ভাবে নামাজ পড়িলে।
       ২. দীন দু:খিকে দান খয়রাত করিলে
       ৩. সর্বদা সুবহানাল্লাহ পড়িলে
       ৪. শুদ্ধরূপে কোরআন শরীফ পড়িলে
       ৫. প্রসাব করিয়া প্রথমত ঢিলা কুলুখ দ্বারা পাক হইয়া পরে পানি লইলে।
আর নিন্মলিখিত তিনটি কাজ বর্জন করিবে:-
       ১. মিথ্যা বলা
       ২. গীবত অর্থাপর নিন্দা করা
       ৩. চোখলখুরী অর্থাকুটনিপনা করা।

Wednesday, September 28, 2011

১০২. সুরা তাকাসুর



আয়াত : ৮ রুকু : ১
পরম করুনাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে
১. প্রাচুর্যর প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে,
২. যতক্ষন না তোমরা কবরের সম্মুখীন হও।
৩. এ ঠিক নয়, তোমরা শীঘ্রই তা জানতে পারবে।
৪. আবার বলি, এ ঠিক নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে।
৫. তোমাদের যদি সঠিক জ্ঞান থাকত।
৬. তোমরাতো জাহান্নাম দেখবেই।
৭. আবার বলি, তোমরাতো তা দেখবেই চাক্ষুষ প্রত্যয়ে।
৮. তারপর সেদিন তোমাদেরকে তোমাদের আরাম-উপভোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।