Saturday, October 1, 2011

৭৪. মুদ্ দাসসির



রুকু: ২ আয়াত: ৫৬

পরম করুনাময় পরম দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু

১. ওহে, তুমি যে কিনা নিজেকে কাপড়ে ডেকে রেখেছ।
২. ওঠো, সাবধানবানী প্রচার কর
৩. ও তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষনা কর।
৪. পবিত্র কর তোমার কাপড়।
৫. আর অপবিত্র থেকে দুরে থাক।
৬. বেশী পাওয়ার আশায় তুমি অপরকে কিছু দিবেনা।
৭. আর তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধর।
৮. যেদিন শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে সেদিনটি হবে
৯. এক সংকটের দিন।
১০. অবিশ্বাসীদের জন্য তা কঠিন।
১১. তাকে (সেই মানুষকে) আমার হাতে ছেড়ে দাও যাকে আমি সৃষ্টি করেছি অসাধারন করে।
১২. আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন-সম্পদ
১৩ ও নিত্যসঙ্গী পুত্রদের,
১৪. আর সচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরন।
১৫. এরপরও সে কামনা করে যে, আমি তাকে আরও দেই।
১৬. না, তা হবে না; জেনেশুনে সে আমার নিদর্শনের বিরোধিতা করতে বদ্ধপ্রতিজ্ঞ।
১৭. আমি তাকে এমন শাস্তি দিয়ে আচ্ছন্ন করব যা ক্রমে বৃদ্ধি পাবে।
১৮. সেতো চিন্তা করে এ সিদ্ধান্তে এসেছে!
১৯. অভিশপ্ত হোক সে, কেমন করে সে এ-সিদ্ধান্ত করলো!
২০. আরও অভিশপ্ত হোক সে, কেমন করে সে এ-সিদ্ধান্তে পৌঁছালো!
২১. সে আবার চেয়ে দেখল।
২২. তারপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল।
২৩. তারপর সে একবার পিছিয়ে গেল ও পরে দম্ভভরে ফিরে এল,
২৪. আর বলল, ‘এ তো লোকপরষ্পরায় প্রাপ্ত জাদু ছাড়া আর কিছু নয়।
২৫. এ তো মানুষেরই কথা।’
২৬. আমি তাকে সাকার-এ ছুড়ে ফেলব।
২৭. তুমি কি জান সাকার কি?
২৮. তা ওদের বাঁচতেও দিবেনা, মরতেও দিবে না,
২৯. গায়ের চামড়া পুরিয়ে ফেলবে।
৩০. এর উপরে রয়েছে উনিশ (জন প্রহরী)।
৩১. আমি ফেরেশতাদেরই জাহান্নামের প্রহরী করেছি। অবিশ্বাসীদের পরীক্ষার জন্য আমি ওদের এ সংখ্যা উল্লেখ করছি যাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বাড়ে, আর বিশ্বাসীরা ও কিতাবীরা সন্দেহ পোষন না করে। এর ফলে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা ও অবিশ্বাসীরা বলবে, ‘আল্লাহ এ দৃষ্টান্ত দিয়ে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?’ এভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ দেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। জাহান্নামের এ বর্ননাতো মানুষের জন্য সাবধানবানী।


৩২. না, শপথ চন্দ্রের! ওরা এতে কর্নপাত করবেনা।
৩৩. শপথ রাত্রির, যখন তা শেষ হয়!
৩৪. শপথ সকালের, যখন তা আলোয় উজ্জ্বল!
৩৫. এ জাহান্নাম – এক ভয়ানক বিপদ।
৩৬. এ মানুষকে সতর্ক করার জন্য,
৩৭. তোমাদের মধ্যে যে কল্যানের পথে অগ্রসর হতে চায় আর যে কল্যানের পথ হতে পিছিয়ে পড়ে, দুয়েরই উদ্দেশে।
৩৮. প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের দুষ্কৃতির জন্য দায়ী থাকবে,
৩৯. তবে যারা ডান পাশে আছে তারা নয়।
৪০. জান্নাতে তারা পরষ্পরকে জিঞ্জাসা করবে,
৪১. অপরাধীদের সম্পর্কে,
৪২. বলবে, ‘তোমাদেরকে কিসে সাকার-এ নিয়ে এল?’
৪৩. ওরা বলবে, ‘আমরা নামাজ পড়তামনা,
৪৪. আমরা অভাবীকে খাবার দিতামনা,
৪৫. আর যারা অবাস্তব কথা বলে তাদের সাথে যোগ দিয়ে বাজে কথা বলতাম।
৪৬. আমরা বিচার দিনকে অস্বিকার করেছি,
৪৭. আমাদের কাছে অবধারিত মৃত্যু আসা পর্যন্ত।’
৪৮. তাই সুপারিশকারীদের সুপারিশ ওদের কোন কাজে আসবেনা।
৪৯. ওদের কি হয়েছে যে, ওরা এই উপদেশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?
৫০. ওরা যেন ভীতচকিত গর্দভ,
৫১. যারা সিংহের সামনে থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।
৫২. নাকি, ওরা প্রত্যেকেই চায় ওদের প্রত্যেককে আলাদা করে এক-একটা উন্মক্ত গ্রন্থ দেওয়া হোক?
৫৩. না, এ হবার নয়। ওদেরতো পরকালের ভয় নেই।
৫৪. না, এতো এক অনুশাসন।
৫৫. অতএব যার ইচ্ছা সে এ থেকে শিক্ষা গ্রহন করুক।
৫৬. আল্লাহর ইচ্ছা না হলে কেউ এ থেকে গ্রহন করতে পারবেনা। তিনিই একমাত্র ভয় করার যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।


No comments:

Post a Comment